পূর্বধলায় পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের বৃদ্ধ শ্বশুরের নামে
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বৃদ্ধ এক পিতা অভিযোগ করেছেন, তার আপন ছেলে ও পুত্রবধূ তাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছেন। শুধু তাই নয়, পুত্রবধূ এক পর্যায়ে তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে তাকেও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুনঃ কুড়িগ্রামে টিউশনি পড়িয়ে জিপিএ-৫, অভাব রুখতে পারেনি পাখিকে
ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের পূর্ব ভিকুনিয়া গ্রামে।
অভিযোগকারী মো. পসর আলী (৬৫) প্রথমে পূর্বধলা থানায় এবং পরবর্তীতে কৌর্টে অভিযোগে জানান, তার ছেলে মো. আকিকুল ইসলাম ও পুত্রবধূ শেফালী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায়ই তাকে শারীরিকভাবে আঘাত ও মানসিক হুমকির মধ্যে রাখা হতো।
তিনি বলেন, আমার স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায়ও ওরা তাকে নির্যাতন করত। স্ত্রীর মৃত্যুর পর আমি দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে এরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর শুরু হয় আমার ওপর হামলা, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি। বৃদ্ধ পসর আলী জানান, পুত্রবধূ শেফালী আক্তার এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন, যা পরে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তাকে সামাজিকভাবে অপদস্থ ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতেই এমন চক্রান্ত করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এক রাতে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে আঘাত করা হয় এবং গলায় চাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
বড় ছেলে সহিদুল ইসলামে জানান, আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী শেফালী দীর্ঘদিন ধরে আমার বৃদ্ধ বাবা-মা এবং আমাদের পরিবারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে। সে একাধিকবার আমার বাবাকে মারধর করে পা, আঙুল ও মাথায় গুরুতর আঘাত করেছে। এমনকি আমাদের সবাই তার হামলা ও মারধরের শিকার হচ্ছি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৭ জুন সে আমি আমার স্ত্রী এবং ইন্টার পড়ুয়া মেয়ের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে। তাছাড়া, সে আমার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ করেছে এবং আরও লজ্জাজনকভাবে আমার বাবার নামে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দিয়ে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সত্যতা জানে। আমি থানায় ও আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং প্রশাসনের কাছে সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পুত্রবধূ শেফালী আক্তার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো নিজেই নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহীনুর ইসলাম জানান, "ঘটনার পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ দায়েরের পর আর বাদীপক্ষ থানার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। পরবর্তীতে শুনেছি তারা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।"
সাগর আহমেদ জজ,পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

No comments