Breaking News

পার্বতীপুরে মৎস্য খামারী মনির দেশী টেংরা মাছের পোনা উৎপাদনে ভাগ্যের সফলতা অর্জন করেন

পার্বতীপুরে মৎস্য খামারী মনির দেশী টেংরা মাছের পোনা উৎপাদনে ভাগ্যের সফলতা অর্জন করেন


দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নে ইন্দ্রপুর গ্রামে নুরুল হকের ছেলে মনির হোসেন (৩০) বাবা-মা, ভাই- বোন, স্ত্রী ও পুত্র সহ ছয় সদস্য নিয়ে সুখী পরিবার। পারিবারিক সুত্রে পিতার কৃষি কাজে হাল ধরতে হয় তাকে। মনির হোসেন বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেন নাই। কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মনির হোসেন জানান ২০২১ সালে ৬ মাসব্যাপী দিনাজপুর যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মৎস্য চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ছোট্ট জলাশয়ে মাছ চাষ শুরু করে লাভের সম্ভাবনা বুঝতে পারেন। মাছ চাষের প্রতি তার আগ্রহ প্রবলভাবে বেড়ে যায়। কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ চাষ শুরু করেন। মনির হোসেন দেশি টেংরা মাছের পোনা উৎপাদনে ভাগ্যের সফলতা অর্জন করেন। মনির হোসেন জানান ৫০ শতক জমি পুকুরে টেংরা উৎপাদনে সর্বমোট তার খরচ হয়েছে ১,৬৫,০০০/- টাকা। নতুন করে তিনি চলতি বছরে আরো ২ একর পুকুর লিজ নিয়েছেন। বর্তমানে তার খামারে ৪ জন লোকের স্থায়ী কর্মসংস্থান হয়েছে, ৭ জন লোক অস্থায়ীভাবে কাজ করেন। মাছের পোনা উৎপাদনের পাশাপাশি পুকুরের চার পাশে ফলজ গাছ রোপন করেছেন। মনির হোসেনের মৎস্য খামার জেলাবাসীর কাছে আদর্শ খামার হয়ে উঠেছে। আশে-পাশে ও দূর-দূরান্ত থেকে মৎস্য বিক্রেতা খামারীরা তার কাছ থেকে টেংরা মাছের পোনা ক্রয় করে নিয়ে যায়। যুবক মনিরের উৎপাদিত টেংরা মাছের পোনা নিতে আসা মৎস্য খামারী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি আগে অন্য মাছ চাষ করতেন, এখন দেশী টেংরা মাছ চাষ করছেন। অন্য মাছের চেয়ে টেংরা মাছের লাভ অনেক বেশি মাছের পোনা বিক্রেতা বলেন, মনিরের পুকুর থেকে সপ্তাহে ৫-৬ দিন মাছের পোনা হাঁড়িতে করে বাহিরে বিক্রি করি। টেংরা মাছের পোনা বিক্রি করে আমার ভালো লাভ থাকে। বেসরকারী সাহায্য সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পি কে এস এফ) এর দিনাজপুর জেলা মৎস্য গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ রায়হানুল ইসলাম জানান, সরকারী মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি তাদের কার্যালয় থেকে উদ্যোক্তা মনির হোসেন কে দেশি টেংরা মাছের পোনা উৎপাদনে প্রথম থেকে সহায়তা করা হচ্ছে, তিনি বলেন, বেসরকারী সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রে সূচনা মহিলা সমিতি জেলা-চিরিরবন্দর উপজেলা ভবের বাজার শাখার, কারিগরী সহযোগিতা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মনির হোসেনকে সহায়তা করছেন। গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, টেংরা মাছ খেতে সু-স্বাদু ও পুষ্টিগুনে ভরপুর। দিনাজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা পুরবী রাণী রায় বলেন, উদ্যোক্তা মনির হোসেন আমাদের সৃষ্টি। চাকুরীর পিছনে না ঘুরে মাছ চাষের জন্য আহবান জানিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছি।


জেলা প্রতিনিধি (দিনাজপুর)

No comments