Breaking News

যথাযোগ্য মর্যাদায় হালুয়াঘাটে (বন্দরকাটা) যুদ্ধ দিবস গাজিরভিটায় অনুষ্ঠিত

যথাযোগ্য মর্যাদায়  হালুয়াঘাটে (বন্দরকাটা) যুদ্ধ দিবস গাজিরভিটায় অনুষ্ঠিত।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজিরভিটা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বরাক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আজ ৬ আগস্ট, সকাল ১০টায় ‘বন্দরকাটা যুদ্ধ দিবস’ উপলক্ষে মিল্লাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংঘটিত বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের স্মরণে গাজিরভিটা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল এ আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, "আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে হালুয়াঘাটের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও ইতিহাসকে তুলে ধরতে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী কাজীম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রজ্জাক আকন্দ। সভায় বক্তারা বন্দরকাটা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

 জানাযায় ১৯৭১ সালের ৬ আগস্ট ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বান্দরকাটা বিওপিতে সংঘটিত এক গৌরবময় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটির পতন ঘটান। এতে ১৫-২০ জন পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত এবং ৩০-৩৫ জন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষেও ৬ জন শহীদ ও ৯ জন আহত হন। 

৫ই আগস্ট রাতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বান্দরকাটা বিওপির আশপাশে যাঁর-যাঁর অবস্থান গ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান গ্রহণের পর থেকেই প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়। একেতো বর্ষাকাল, তার মধ্যে আবার বিরামহীন বৃষ্টি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাহাড়ি স্রোতধারাগুলো স্ফীত হয়ে কিনার ছাপিয়ে মাঠের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শুরু করে। বান্দরকাটা বিওপির চর্তুদিকসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষেতের উঁচু আল দেখে-দেখে সেখানে তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকেন। রাতের শেষ প্রহরে বৃষ্টি কিছুটা কমে এলেও বাতাসের ঝাপটা অব্যাহত থাকে। এমন দুর্যোগময় অবস্থার মধ্যেই ৬ই আগস্ট ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে বান্দরকাটা বিওপি ঘেরাও করে অনবরত গুলি ছুড়তে থাকেন। এদিকে একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আর্টিলারি সাপোর্ট অব্যাহত থাকে। দিশেহারা হয়ে পাকবাহিনীও প্রচুর গুলি ছুড়তে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষিপ্ত গতিতে গুলি ছুড়তে-ছুড়তে একেবারে বাংকারের কাছে চলে যান। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা বিওপির পেছন (দক্ষিণ) দিক দিয়ে মুন্সিরহাটের দিকে পালিয়ে যায় এবং বান্দরকাটা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে। এ ভয়াবহ যুদ্ধে ১৫-২০ জন পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার নিহত এবং ৩০-৩৫ জন আহত হয়। অপরদিকে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ৯ জন আহত হন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন- আবদুল আজিজ গোবরাকুড়া, হালুয়াঘাট, পরিমল দে ধানশাইল, ঝিনাইগাতী, আবদুস সালাম লামুক্তা, হালুয়াঘাট, আবুল হোসেন (মহিষলেটি, হালুয়াঘাট), রিয়াজ উদ্দীন বাহিরশিমুল, হালুয়াঘাট ও আবদুল হাকিম, ঢাকা। আহতরা হলেন- অখিল বাতিক, সূর্যপুর, হালুয়াঘাট, লব সাংমা, সন্ধ্যাকুড়া, রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া ঘোষগাঁও, ধোবাউড়া, আবদুস সালাম শম্ভুগঞ্জ প্রমুখ। বান্দরকাটা যুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে এ দেশে স্বাধীনতার ইতিহাসে।

সমীর সরকার ময়মনসিংহ বিশেষ প্রতিনিধি 

No comments