বাঁশখালীতে ভূমিহীন পরিবারের বসত ভিটা দখল, সাবেক ৩ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভূমিহীন ও অসহায় ২টি পরিবারের আর ও বিএস খতিয়ান ভুক্ত বসতভিটা দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক তিন ইউপি সদস্য ও তাদের ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে। এই প্রভাবশালী চক্রটি শুধু জমি দখলের চেষ্টা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাদীকে হয়রানি ও বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মোকামী পাড়ায়। জমি দখল ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগকারি ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, সাধনপুর ইউনিয়নের মোকামী পাড়ায় তাদের এজমালী বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে সাবেক তিন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র।
অসহায় পরিবারটি তাদের বসত ভিটা রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত তাদের পক্ষে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
কিন্তু আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা জারির পরেও সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা তাদের হয়রানি অব্যাহত রাখে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২০২০-২১ সালে তারা জোরপূর্বক পরিবারের সদস্যদের (ওয়ারিশান সনদ) আটকে রেখে তড়িঘড়ি করে আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার শুনানি করে তা খারিজ করে দেন।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা কৌশলে আদালত থেকে বাদীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করিয়ে নেয়। এই নজিরবিহীন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ, তবুও বিচার মেলেনি
ভুক্তভোগী পরিবারটি এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও এখনো তারা কোনো বিচার পায়নি। সাবেক বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার নোটিশ জারি করেন। নোটিশ পেয়েও সাবেক ইউপি সদস্য ও তার ভাইবোনেরা উপস্থিত না হওয়ায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে একটি শোকজ জারি করার জন্য সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্দেশনা প্রদান করেন। এর দুদিন পর শুভশ্রীর জারি হয়েছে কিনা খবর নিতে যায় সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তিনি আমাদেরকে প্রতিউত্তরের জানিয়েছিলেন শোকজ এর নোটিশটি নির্বাহী অফিসারের গাড়িতে রেখে দিয়েছে। ওই কর্মকর্তার কথা শুনে মর্মাহত হয়ে ফিরে আসি এরপর বহুবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে দেখা করতে গেলে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বারবার বাধা প্রদান করে দেখা করার সুযোগ দেয়নি। উল্টো বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাদের বিচার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে করে ভূমিহীন পরিবারটি বিচারহীনতার আশঙ্কায় ভুগছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালী মহলের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে ভীত এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও সাহস পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী পরিবারটি আবারও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের আরএস বিএস খতিয়ান ভুক্ত ১০০ বছরের উপরে দখলীয় বসতভিটা রক্ষা করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
ধারাবাহিক প্রতিবেদন ১০ পর্বের ১ম পর্ব
আনিসুর রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম)

No comments