সুনামগঞ্জে শিশু রিংকন হত্যা: আসামি গ্রেপ্তারে টালবাহানা, ভিকটিম পরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায়
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সমধল নোয়াগাঁও গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের শিশু রিংকন বিশ্বাস হত্যার মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অনীহা, তদন্তে ধীরগতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ভিকটিম পরিবার গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ন্যায়বিচার না পাওয়ার শঙ্কায় ভুগছে।
পরিবারের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর হলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। মামলার বাদী রিংকনের মা বাসন্তী রানী বিশ্বাস দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তারা আসামিদের পক্ষ নিয়ে মামলার অগ্রগতি ধীরগতিতে করছেন এবং ঘুষ বাবদ প্রায় ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। অথচ এজাহারভুক্ত অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
২২ জুন ২০২৪ তারিখে রিংকনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার লাশ স্থানীয়ভাবে মাটিচাপা দিয়ে গুমের চেষ্টা হয়। প্রথমে ‘অপমৃত্যু মামলা’ হিসেবে দায়ের করা হলেও আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলন ও ভিসেরা পরীক্ষায় প্রমাণ মেলে—শিশুটি আঘাত ও শ্বাসরোধে খুন হয়েছে। পরে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলে দু’জন আসামি গ্রেপ্তার হয় এবং আদালতে স্বীকারোক্তিও দেয়। তবে বাকি আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভিকটিম পরিবারের অভিযোগ, থানা-পুলিশ থেকে চিকিৎসক পর্যন্ত অনেকে প্রভাবশালীদের পক্ষে কাজ করেছে। আদালতের নির্দেশে পিবিআই সিলেট নতুন করে তদন্ত শুরু করলেও পরিবার মনে করছে, ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাসন্তী রানী বলেন, আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছিলাম ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তারা আসল খুনিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
পরিবার বর্তমানে মামলার আইও ও এসপিকে তদন্ত থেকে অব্যাহতি দিয়ে সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
রিংকনের মায়ের আকুতি আমাদের একমাত্র চাওয়া, রিংকনের হত্যাকারীরা যেন শাস্তি পায়। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ পরিবার এভাবে অন্যায়ের শিকার না হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে পিবিআই এসপি'র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

No comments