কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ
আজ কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০২১ সালের এই দিনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তরাঞ্চলের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে।
২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গাপীড়িত কুড়িগ্রাম জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিল পাস হওয়ার পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে সদর উপজেলার টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষাকার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য সদর উপজেলার বেলগাছা ও মোগলবাসা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী নালিয়া দোলায় প্রায় ২৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্যাম্পাসটি কুড়িগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে ধরলা নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতের উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণা ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। ইতোমধ্যেই গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গবেষণা ও কন্ট্রাক্ট ফার্মিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক এ কে এম জাকির হোসেন। বর্তমানে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। বর্তমানে এখানে দুটি ফ্যাকালটি চালু রয়েছে। প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি পুরুষ ও একটি মহিলা হোস্টেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ, গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের নিয়োগ। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, গবেষণা প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি শিক্ষার বিস্তার ও কৃষকবান্ধব গবেষণার মাধ্যমে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

No comments