কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ইউনিয়ন সড়কে ভাঙন, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার মানুষ
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাথরডুবি ইউনিয়নে মাটি ধসে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের থানাঘাট বাজারঘেঁষা ফুলকুমার নদী উপর নির্মিত ব্রিজ থেকে একশ গজ দূরে নদী পার সংলগ্ন সড়কটি ভেঙে পড়ায় ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সড়কটির অপর প্রান্তে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। রয়েছে তিনটি হাট-বাজার, প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও প্রতিবন্ধী স্কুলসহ ১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি বিজিবি ক্যাম্প, ৫০টিরও বেশি পোলট্রি খামার।
এছাড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘আমার গ্রাম আমার শহর প্রকল্প’-এর কাজও চলমান। প্রতিদিন হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষক এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। ফলে জনসাধারণের দুর্ভোগের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, খামারের খাবার, ডিম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বড় কোনো যানবাহন এখন আর চলতে পারছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, যথাযথ ড্রেনেজ ও গাইডওয়াল না থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও বর্ষার বৃষ্টিতে মাটি ধসে সমস্যা আরো তীব্র হয়েছে। কয়েক দফা সাময়িক মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রুকনুজ্জামান বলেন, সড়কটি প্রায় পুরোপুরিই ভেঙে গেছে। আমরা ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সফল উদ্যোক্তা স্থানীয় ডাক্তার শরিফুল ইসলাম বলেন, এটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে নজর দেয়া দরকার। নইলে উদ্যোক্তা ও কৃষকসহ অনেকেই মারাত্বক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সবুর জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে, কথাও বলেছি। আগামীকাল লোক পাঠাবেন। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীব জন মিত্র বলেন, আমি নিজে গিয়ে সড়কটি দেখেছি। অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ মনে হয়েছে। যেহেতু সড়কটি নদী সংলগ্ন, তাই ভালো মত গাইডওয়াল দিয়ে কাজ করতে হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই প্রাক্কলন তৈরি করে কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে।
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

No comments