ফেনীতে আমার স্পষ্ট অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার কোনো স্বপ্ন আমার নেই -তারিকুল ইসলাম ভূইয়া, চেয়ারম্যান জনতার অধিকার পার্টি
ফেনীর মানুষ জানতে চান আমি কোন আসনের নির্বাচন করব। আজকে সবার সামনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি—আমি এই মুহূর্তে কোনো আসনের প্রার্থী নই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রতিনিধি হওয়ার কোনো স্বপ্ন আমার নেই।
আমার কাছে রাজনীতি মানে ক্ষমতার লোভ নয়, বরং মানুষের অধিকার, দুঃখ-কষ্ট এবং দাবিগুলো তুলে ধরা। আমার পাশে যারা শুভাকাঙ্ক্ষী কর্মী আছেন, তাদের কষ্ট-দুর্দশার কথা বলাই আমার রাজনীতি।
হ্যাঁ, ফেনীর দুই আসনের দিকে আমার বিশেষ নজর ছিল, কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি—ফেনী-২ আসনে আমি কোনো নির্বাচন করব না। এই আসনে মানুষের রায়, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস রয়েছে। এখন সময় এসেছে রাজনীতির চর্চা পাল্টানোর। এই খানে আমার প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যদি প্রার্থী হন, আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়—সহযোগিতা করব। কারণ ফেনীকে এগিয়ে নিতে আমাদের সবার ঐক্য দরকার।
আমি বিশ্বাস করি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে নোংরামি, দুর্নীতি, লুটপাট, ভন্ডামী যতদিন থাকবে ততদিন মানুষ প্রতারিত হবে। আমি সেই প্রতারণার রাজনীতির অংশ হতে চাই না। জনপ্রতিনিধি হলে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, কিন্তু তা পূরণ না করলে সেটি মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আমি প্রতিশ্রুতির নামে প্রতারণা করতে রাজি নই। ক্ষমতা আল্লাহর দান, ক্ষমতা কারো চিরস্থায়ী নয়।
অতীতে আমি ফেনী-১ আসনে ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচন করেছি, ২০১৪ সালে ফেনী সদর উপজেলা ভাইচ চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম, ঢাকায়ও সংসদ নির্বাচন করেছি। ২০২১ সালে ফেনীতে মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমার মনে হয়—আল্লাহপাক আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন, সম্মানও দিয়েছেন। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য মানুষের জন্য কাজ করা। আমি এমপি বা মন্ত্রী না হলেও মানুষের কল্যাণে কাজ করার তৃপ্তি সবচেয়ে বড় পাওয়া।
দীর্ঘদিন হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। একের পর এক গ্রেপ্তার, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাকে বারবার স্তব্ধ করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আমি ভেঙে পড়িনি। আজ যারা একসময় দুঃসময়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, ৫ তারিখের পর তারা অনেকেই কোণঠাসা। এটাই প্রমাণ করে দেশের রাজনীতি কতটা অন্ধকার দিকে ধাবিত হয়েছে।
আমি স্পষ্ট জানাতে চাই—আমি ক্ষমতার রাজনীতি করব না। জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের পাশে থেকে, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। আমার জীবনে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা হয়তো পূরণ হবে না, কিন্তু বাকি সময় আমি ফেনীবাসীর কল্যাণে, দল-মত নির্বিশেষে কাজ করে যাব।
জনতার অধিকার পার্টি (পিআরপি)-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই অগ্রসর হচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা গতিশীল হচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি—আগামী দিনে আমরা এ অঙ্গীকারের সুফল ভোগ করব।
ধন্যবাদ প্রিয় ফেনীবাসী—আপনাদের আস্থা, ভালোবাসা আর দোয়া নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই।
মোহাম্মদ ইসমাইল, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

No comments