Breaking News

ফেনী-২ আসনে আলোচনার শীর্ষে কানাডা বিএনপির নেতা এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী

ফেনী-২ আসনে আলোচনার শীর্ষে কানাডা বিএনপির নেতা এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী


আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে কানাডা প্রবাসী বিএনপি নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবী হুমায়ুন পাটওয়ারী। জন্মস্থান ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের যাত্রাসিদ্ধি গ্রামে। 


বিএনপি নেতা এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী দেশে-বিদেশে বিস্তৃত করেছেন তার সেবামূলক কর্মকান্ড। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে প্রবাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসীদের কল্যাণে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। দেশেও সমানতালে সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গা নাগরিকদের কল্যাণেও পরিচালনা করছেন কার্যক্রম। দুই যুগ আগে কানাডায় স্থায়ী হওয়া হুমায়ুন পাটওয়ারী দেশের মানুষের জন্য বৃহৎ পরিসরে সেবা কার্যক্রম পরিচালনার সুয়োগ প্রত্যাশা করছেন। এজন্য আগামীতে দলীয় ও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান নিজের জন্মস্থান ফেনীতে। তার প্রিয় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সুযোগ দিলে আসন্ন ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-২ (সদর) আসনে লড়ার ইচ্ছা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। ফেনী-২ আসনটি সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ফেনী পৌরসভার ১৮ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।  


কানাডা বিএনপি (ওয়েস্ট)-এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, প্রবল গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর সম্প্রতি দেশে এসেছেন তিনি। এই সময়ে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তার সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দুস্থ পরিবারের সদস্যদের বিয়ে, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা, ঘর তৈরি করে দেয়ার কাজ করছেন একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আছে তার নানা উদ্দ্যোগ। বন্যা-দুর্যোগে সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ান সর্বশক্তি নিয়ে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে কানাডা বিএনপি (ওয়েস্ট)-এর সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, কানাডাতে ব্যবসা করে জীবন নির্বাহ করি এবং গাড়ি-বাড়ি সবই আছে এখন শেষ বয়সে দেশে বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা করতে চাই।


সততার সঙ্গে রাজনীতি ও সেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছি। ৯০-এর দশকে দেশে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হই। এরপর থেকে দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত আছি। কানাডায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা অব্যাহত কর্মসূচি পালন করেছি। এতে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশে আন্দোলনে যুক্ত হতে না পারলেও তারা প্রবাসে থেকে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ ও আর্থিক সহায়তা করেছেন নানাভাবে। সর্বশেষ গণঅভ্যুত্থানের সময়ে অটোয়াতে প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ সমাবেশ হয়েছে। তারা গণআন্দোলনে সংহতি জানাতে কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে অটোয়াতে ছুটে এসেছিলেন। 


প্রবাসী নেতা হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, প্রবাসে থাকলেও সব সময় মাথায় থাকে মানুষের সেবার বিষয়। এখন ফেনীসহ সারা দেশেই সেবামূলক কাজ করছি। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ কাজ করতে চাই। এজন্য দলীয় রাজনীতি তথা এমপি নির্বাচনে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশা করছি। দল মনোনয়ন দিলে আমি নিজের সর্বোচ্চ নিয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।


হুমায়ুন পাটওয়ারী শুধু মানুষের সেবাই নয়, পরিবেশ নিয়েও কাজ করছেন।  ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেনীতে এই বছরও ৫০ হাজার গাছ লাগানোর কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসে থাকলেও সবসময় দল ও দেশের জন্য চিন্তা করেছি। আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে হওয়া দুর্নীতি ও দমনপীড়ন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ঘটনাবলীর তথ্য সংগ্রহ করে শ্বেতপত্র আকারে দুই শতাধিক বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আমরা পৌছে দিয়েছি। সরকারবিরোধী আন্দোলন ও কার্যক্রম নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা নিয়েই কানাডায় নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। 


তিনি বলেন, ফেনীতে বিগত ১৬ বছর তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামীলীগের নেতারা নিজেরা আখের গুছিয়েছেন। তারা নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারে ব্যস্ত ছিলেন। মানুষের জন্য তারা কাজ করেননি। সুযোগ পেলে সেখানে মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। যুবকদের কর্মসংস্থানমূলক কাজ করতে চাই। ফেনীতে মেডিকেল কলেজ,আবাসন সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং কলেজ নেই, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও আইটি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে চাই। এখানে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। কারণ ফেনী চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত। এখানে শিল্প স্থাপন হলে রপ্তানিতে খরচ কম পড়বে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইকোপার্কসহ আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষুধার্ত শিশুদের জন্য ফুড ফর মিলিয়ন নামে কর্মসূচি চালু করতে চাই। ফেনীতে ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মতো শিশুদের জন্য পার্ক করার পরিকল্পনা আছে। সুযোগ পেলে এগুলো বাস্তবায়ন করে মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। 


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এখন সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এই পরিবর্তনে রাজনীতিবিদদেরই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাম্য ও মানবিক দেশ গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। রাজনীতি ও মানুষের সেবায় আমার ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুযোগ পেলে আমি নিজের অভিজ্ঞতা দেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই।


উল্লেখ্য ; ফেনী-২(সদর) আসনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি-৪ বার ও জাসদ ১ বার বিজয়ী হয়।

মোহাম্মদ ইসমাইল, ফেনী জেলা প্রতিনিধি 

No comments