ফেনীর সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়ার পিতাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
বিএমইউজে ফেনীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাগলনাইয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি, দৈনিক মুক্ত খবর ও ডেইলি স্টেট জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়ার পিতা মোঃ মোস্তফা ভূঁইয়া (৮৪) রবিবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ঐদিন বিকাল ৪টায় উত্তর সতর গ্রামের বাড়িতে মরহুমের ছোট সন্তান আরাফাত হোসাইন ভূঁইয়া এর ঈমামতিতে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা পূর্বে স্মৃতি চারণ করেন ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ সভাপতি ও বিএমইউজে ফেনীর সভাপতি কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, ছাগলনাইয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ কামাল, স্থানীয় বিএনপি নেতা সালেহ আহমেদ প্রধান, নুরুল হক মজুমদার, মহামায়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির খুরশিদ আলম, ছাগলনাইয়া বাজারের ব্যবসায়ী পেয়ার আহমেদ, রৌশন ফকির জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আমির হোসাইন চৌধুরী, মাওলানা আবুল কালাম পাটোয়ারী, মরহুমের বায়েরা আবদুল হাই ভূঁইয়া, মরহুমের ছোট ভাই আলহাজ্ব শহীদ উল্লাহ ভূঁইয়া, মরহুমের বড় সন্তান আহমেদ উল্লাহ ভূঁইয়া। এছাড়াও চাঁদগাজী হাই স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক নুরুল আলম চৌধুরী, ঈদগাহ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ বেলাল হোসেন সহ এলাকার বিপুল সংখ্যক গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে মরহুমের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সাংবাদিক মাছুম বিল্লাহ ভূঁইয়ার পিতা মোঃ মোস্তফা ভূঁইয়া (৮৪) দীর্ঘ দিন যাবত বার্ধক্যজনিত রোগাক্রান্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে মোস্তফা ভূঁইয়া (৮৪) এক স্ত্রী, ৪ পুত্র, ১ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। এর আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ছাগলনাইয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সাংবাদিক মাসুমের দাদা মরহুম আলহাজ্ব মাষ্টার ওয়াহিদুর রহমানের জৈষ্ঠপুত্র মোহাম্মদ মোস্তফা ভূঁইয়া ১৯৪৩ সালে জম্ম গ্রহন করেন। চাঁদগাজী হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণী, ছাগলনাইয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্টিক , ফেণী সরকারী কলেজ থেকে বিএ পাস করে নারায়নগঞ্জের কুকিল টেক্সটাইল এ হিসাবরক্ষক হিসাবে কর্মময় জীবনে পা দেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে যান। ৬৬ সালে পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়ে আত্বগোপনে যেতে হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যপক ওববায়দুল্লাহ মজুমদারের পক্ষে নির্বাচন করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কারনে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী বাড়িঘরে হামলা চালায়। কোন রকমে পালিয়ে সেইদিন রক্ষা পান।
কুকিল টেক্সটাইলের মালিক আশ্রাপ সাহেব তাকে অনেক বিশ্বাস করতেন। পাকিস্তানীরা এ ব্যপারে জানার পর কুকিল টেক্সটাইলে হামলা চালান। অল্পের জন্য বেচে গেলেও কুকিল টেক্সটাইল আর চালু হয়নি।
বাড়িতে এসে ছাগলনাইয়া থানায় ব্যবসা শুরু করেন। বিপণী বিচিত্রা নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ছাগলনাইয়া বাজার কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন।
১৯৭২ সালে গতিয়া সোনাপুর খোন্দকার মাওলানা ওবায়দুল হকের জৈষ্ঠ্যকন্যা খোন্দকার দিলাফরোজ এর সাথে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে পাঁচ সন্তান ও এক কন্যা সন্তানের জনক হন। ১৯৯০ সালে পারিবারিক কারনে ছোটভাইদের সাথে ব্যবসা আলাদা করে রৌশন ফকির তাকিয়া বাজারে রোজ ট্রেডার্স নামীয় দোকান ২০০৫ সাল পর্যন্ত মুদি দোকান করেন।
জিয়াউর রহমানের প্রতি আস্থা সৃষ্টির কারনে স্বাধীনের পর বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হয়ে সমাজ সেবায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫ নং মহামায়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতা ছিলেন।
২০০৫ সালে তাঁর দ্বিতীয় সন্তান ওয়ালী উল্যাহ কেন্সার রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃর্তুবরন করেন। সন্তান হারানো পর মানষিক ভাবে ভেঙে পড়েন। ২০১৮ সালে তিনি ঢাকার একটি অভিজাত হাসপাতালে এভ্যান্ডিসাইড অশ্রপাচার করে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
২০২০ সালে নারায়নগঞ্জের একটি বিশেষায়ীত হাসপাতালে হার্নীয়া অশ্রপাচার করে চিকিৎসা গ্রহন করেন। সর্বশেষ ঢাকা ইবনে সিনা হাসপাতালে দীর্ঘ দিন চিকিৎসা গ্রহণ করে ছিলেন।
মোহাম্মদ ইসমাইল, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

No comments