Breaking News

নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ-দুর্নীতি: ক্ষোভ বাড়ছে জনগণের

নাগরিক সেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ-দুর্নীতি: ক্ষোভ বাড়ছে জনগণের


সরকারি সেবা পেতে গিয়ে পদে পদে হয়রানি এবং ঘুষের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমন কোনো সরকারি দপ্তর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যেখানে ঘুষ না দিলে ফাইল নড়ে না বা কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলে না। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি জনগণের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে Transparency International Bangladesh (TIB) এর এক গবেষণায় জানা গেছে, সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দেশের প্রায় ৯৭% নাগরিক কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা অফিস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনিয়ম ও ঘুষ লেনদেন এখন যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সামান্য একটি কাজের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে থাকেন, কিন্তু ঘুষ না দেওয়া পর্যন্ত সেই কাজ সম্পন্ন হয় না।

এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চট্টগ্রামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, "একটি মিউটেশন করার জন্য এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছি। কিন্তু অফিসের বড়বাবু থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত সবাই টাকা চায়। তাদের দাবি না মেটালে তারা কোনো কাজ করে না।" আরেকজন বলেন, "পাসপোর্ট রিনিউ করতে গিয়ে দালাল এবং কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়েছি। দালাল ছাড়া ফাইল জমা দেওয়া যায় না, আর দালালকে টাকা দিলেই কেবল দ্রুত কাজ হয়।"

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতির এই চিত্র দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বড় বাধা। এটি শুধুমাত্র সরকারের ভাবমূর্তিই নষ্ট করে না, বরং জনগণের মধ্যে হতাশা ও আস্থাহীনতা তৈরি করে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ এবং কার্যকর তদারকির বিকল্প নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যায় না। তাই, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, বরং এর কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এই অনৈতিক লেনদেন বন্ধ করা হোক এবং জনগণের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক।

আনিছুর রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম)

No comments