ত্যাগের প্রতিদান: এক নির্মম বাস্তবতা
পরিবারের জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া মানুষগুলো প্রায়শই সমাজের চোখে বোকা বা ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা বোকা নয়, বরং তারা হলেন সেই নীরব যোদ্ধা, যারা নিজেদের সবটুকু দিয়ে পরিবারকে আগলে রাখেন। নিজেদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে দূরে ঠেলে দিয়ে তারা পরিবারের সুখ নিশ্চিত করেন। তাদের জীবনের গল্পগুলো হয়তো সাফল্যের মাপকাঠিতে মাপা যায় না, কিন্তু তাদের ত্যাগের গভীরতা এতটাই বেশি যে তা কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়।
তারা নিরবে কাজ করে যান, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে তাদের এই নিঃস্বার্থ অবদান প্রায়শই নজরে আসে না। তাদের এই ত্যাগকে অনেকেই তাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন, কিন্তু তারা ভুলে যান যে, এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা নিজেদের কতটা বিসর্জন দিয়েছেন। তারা তাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় এবং সুযোগগুলো অন্যের সুখের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, অনেক সময় এই ত্যাগী মানুষগুলোকেই অকৃতজ্ঞদের কটূক্তির শিকার হতে হয়। তাদের ত্যাগের মূল্য না দিয়ে উল্টো তাদের নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা হয়। যখন তাদের ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে ভালোবাসা এবং সম্মান পাওয়ার কথা, তখন তাদের শুনতে হয় নানা রকম অপমানজনক কথা। এই নির্মম বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনো অনেক মানুষ আছে যারা অন্যের ত্যাগকে সম্মান করতে জানে না, এবং এই অকৃতজ্ঞতা সেইসব ত্যাগী মানুষদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। তাদের এই নীরব কান্না হয়তো কেউ শুনতে পায় না, কিন্তু তাদের ত্যাগের প্রতিটি মুহূর্তই সমাজের এই নির্মমতার এক জ্বলন্ত প্রমাণ।
আনিছুর রহমান,নিজস্ব প্রতিবেদক (চট্টগ্রাম)

No comments