সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার না হলে সাংবাদিকরা নিরাপদ নয়: ডিমলার সাংবাদিকরা
গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নীলফামারীর ডিমলায় কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় ডিমলার স্মৃতি অম্লান (শুটিবাড়ি মোড়) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংবাদপেশায় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫৪ বছরে ৪৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, ১৮০ জনের বেশি নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং বহু সাংবাদিক গুম হয়েছেন—যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি।
বক্তারা আরও বলেন, “সাংবাদিকরা সত্য ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে, যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে।”
তারা তুহিন হত্যার দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এ সময় বক্তারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা ও সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ময়েন কবির, আনোয়ার হোসেন, শহিদুল ইসলাম, আতিকুজ্জামান আতিক, মোতালেব হোসেন, জসিম উদ্দিন নাগর, বাদশা প্রামাণিক, মিজানুর রহমান সবুজ, জাহিদুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আমিনুর রহমান দুলাল, ইউনুস মোল্লা, আরিফ ইসলাম আলাল, রেজোয়ান ইসলাম, কামরুজ্জামান মৃধা, মোশারফ পারভেজ, আঃ হামিদ ও নয়ন ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে দেশের সাংবাদিক মহলে গভীর শোক ও ক্ষোভ নেমে এসেছে।
বক্তারা শেষ পর্যন্ত সতর্ক করে বলেন, “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা বাড়তেই থাকবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা বিপন্ন হবে।”
মোঃমফিজুল ইসলাম,নীলফামারী,জেলাপ্রতিনিধি

No comments