ফেনীর নবাবপুরের জনআস্থার প্রতীক জহির চেয়ারম্যান
প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আজ গোটা জাতি ক্লান্ত ও অতিষ্ঠ। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দলীয় কোন্দল ও প্রতিহিংসার আগুনে সাধারণ মানুষ যেমন ভুগছে, তেমনি আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মীরাও হয়ে পড়ছেন অসহায়। এই বাস্তবতায় ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নে জহিরুল আলম জহিরের নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি সবসময়ই ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শভিত্তিক। কিন্তু দুঃখজনক হলো—আজ সেই আদর্শিক রাজনীতির কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা। না তারা স্বাধীনভাবে দলীয় কার্যক্রম চালাতে পারছেন, না দল ত্যাগ করার সাহস পাচ্ছেন। এমনকি সুবিধাভোগী দুর্বৃত্তদের কাছে ত্যাগী জিয়া পরিবারও একরকম অসহায় হয়ে পড়েছেন।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূইয়া বলেন,চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির সোনাগাজী উপজেলার একজন পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতা। ব্যক্তিজীবনে সততা, নৈতিকতা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সবসময় আলাদা মর্যাদায় আসীন ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মানবিক ও আদর্শিক রাজনীতির চর্চা করেছেন। অথচ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তিনি রেহাই পাননি; নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব নির্যাতন তার জনপ্রিয়তা হ্রাস করতে পারেনি, বরং জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করেছে। এ কারণেই ইউনিয়নবাসী আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়েও দু’দুবার বিপুল ভোটে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে তিনি নিজ দলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের শিকার। নানা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—তার চেয়ারম্যান পদ কেড়ে নেওয়া। অথচ জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, দীর্ঘদিনের গ্রহণযোগ্যতা ও সততার প্রতীকী শক্তি তার সবচেয়ে বড় ভরসা।
বাংলার একটি প্রবাদ আছে—“রাখে আল্লাহ মারে কে।” ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে যে বিশ্বাস ও আস্থা তিনি অর্জন করেছেন, তাতে কোনো দুর্বৃত্ত গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র সফল হওয়ার সুযোগ নেই। সময়ই প্রমাণ করবে—সত্যের জয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তের পর ফেনী জেলার ৪৩ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ৪২ জন ইউপি চেয়ারম্যান পালিয়ে গিয়েছেন। একমাত্র নবাবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির নিরলসভাবে জনগণের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে ২৪ ঘন্টা মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়েছেন, বাডি বাডি খাবার পৌঁছিয়ে দিয়েছেন ।আসহায়দেরকে উদ্যার করেছেন অথচ এরকম একজন মানবিক মানুষের বিরুদ্ধে তুচ্ছ কিছু বিষয় নিয়ে গুটি কয়েক কুচক্রীমহল অপপ্রচার চালায়ে যাচ্ছেন। এটি অত্যান্ত নিন্দনীয় কাজ।
নবাবপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হোসেন আহম্মদ বলেন ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির অত্যান্ত বিনয়ী ও পর উপকারী একজন মানুষ, আমরা নাগরিক সুবিধা সহ সকল কাজে উনার নিকট থেকে সহযোগীতা পাই। শিক্ষার্থীরা যাতে করে নিয়মিত স্কুলে আসতে পারে সে জন্য কিছুদিন আগে তিনি ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে ১৭শ ছাতা বিতরণ করেছেন। এটি অত্যান্ত প্রশংসনীয় কাজ।
নবাবপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক সুলতান বাহাদুর বলেন বাজারের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য জহির চেয়ারম্যান পুরো বাজারে সিসি ক্যামরা স্থাপন করেছেন। বাজারের সেড গুলোর উন্নয়ন করিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের যেকোন বিপদে আপদে তিনি পাশে থাকেন।
স্থানীয় নবাবপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ ইব্রাহীম বলেন জহির চেয়ারম্যান একজন ধর্মভীরু ও মিষ্টিবাসী মানুষ। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে উৎসাহীত করার জন্য এবছর রমজান মাসে এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের কিশোরদেরকে একটানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায়ের পুরস্কার সরুপ ৩শ জনকে মানসম্পন্ন সাইকেল প্রদান করেছেন।
ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য রোশনা বেগম বলেন, জহির ভাইয়ের মত একজন সৎ যৌগ্য মানুষের সাথে কাজ করতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। নারী ইউপি সদস্য বলে কখনো তিনি আমাদেরকে ছোট করে দেখেননি। ইউনিয়নের উন্নয়ন কান্ড ও বাজেট প্রণয়নের সময় আমাদের মতামতকে অগ্রাধিকা দেন এবং সবধরনের নাগরীক সুবিধা প্রাপ্তি সহজ করেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল আলম জহির বলেন, আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে মনেপ্রাণে ধারন করে রাজনিতি করি। জনগনের ভালোবাসা নিয়ে কঠিন সময়ে দু' বার ইউপি চেয়ারম্যন নির্বাচিত হয়েছি । আমার ইউনিয়নের জনগন জানেন আমি কেমন মানুষ। আমি হারাম খাইনা এবং কাউকে অনৈতিক কোন কাজে কখনো সহযোগিতা করিনা।এজন্য আমার ইউনিয়নের গুটিকয়েক ধান্দাবাজ আমারা বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এতে আমি মোটেও বিচলিত নই।
মোহাম্মদ ইসমাইল, ফেনী জেলা প্রতিনিধি

No comments